“প্রত্যেক শিশু এই বার্তা নিয়ে আসে যে ঈশ্বর এখনও মানুষের প্রতি নিরুৎসাহিত হননি।” – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তিলে তিলে মহীরুপ ধারণের পথে অগ্রসর বাসুদেব অনাথ আশ্রম। যেখানে ভক্ত শিষ্যদের অংশগ্রহণ অবিস্মরণীয়। আপনাদের সাহায্য অনুদান না হলে হয়তো এতো বড় মহৎ কর্মযজ্ঞ পরিচালনা কঠিন হয়ে পরতো। আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সৌহার্দপূর্ণ মনোভাবের কারণে আজ আমরা স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অনেকটা অগ্রসর হতে পেরেছি। - আশ্রম কর্তৃপক্ষ -
মৌলিক চাহিদা অন্ন বস্ত্র বাসস্থান। অন্নঃ- অনাথ শিশুদের ৩ (তিন) বেলা ভাত ও সন্ধ্যায় টিফিন দেওয়া হয়। আশ্রমের নিয়ম অনুসারে নিরামিষ ভোজন ও সঙ্গে মৌসুমী ফলমূল দেওয়া হয়। ...বস্ত্রঃ- বছরের শুরুতে শার্ট, প্যান্ট, গামছা ও নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারের কাপড় দেয়া হয়। প্রতিদিন দুই বেলা উপাসনার জন্য আলাদা পোশাক এবং প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত স্কুল ড্রেস দেয়া হয়। এ ছাড়া দূর্গা পূজায় নতুন বস্ত্র এবং শীতকালে শীতের পোশাক দেয়া হয়।
বাসস্থানঃ- অনাথ শিশুদের থাকার জন্য ৪র্থ ও ৫ম তলায় কৃষ্ণানন্দ ভবনে ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রত্যেক শিশুদের জন্য আলাদা বালিশ, মশারী, চাটাই ও কম্বলের ব্যবস্থা আছে।
অন্ধকার জগত হতে আলোর পথে অবতরনের একমাত্র পথ শিক্ষা। এই অনাথ আশ্রমে শিশু শ্রেনী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়ালেখার সু-ব্যবস্থা রয়েছে। শিশু শ্রেনী থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নের জন্য নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের ইচ্ছা বা সুযোগ থাকলে আশ্রম থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়।
আশ্রমের সকল সদস্যদের সকাল ও বিকালে যোগ ব্যায়াম ও শারীরিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া হয়।
অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা সঙ্গীত, তবলা, বাঁশি ও গীটার ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র শেখানো হয়।
প্রায় ৫০০ জন অনাথ অথবা সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে এই অনাথ আশ্রমের মঠাধ্যক্ষ শ্রীমৎ বিপ্লব চৈতন্য ব্রহ্মচারী মহারাজ। তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অসহায় এই সব অনাথদের জন্য অনুদান সংগ্রহ করে এদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ তৈরী করার জন্য দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলছেন। বিশ্বাস করেন, ওদের কারো কোন চাহিদা নেই।। দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে চায়। ওরায় একদিন বড় হয়ে, মানুষের মতো মানুষ হয়ে সমাজে পিছিয়ে পড়া, অসহায় অনাথদের রক্ষার্থে জীবন বিলিয়ে দিবে।
প্রতিষ্ঠাতা মঠাধ্যক্ষ শ্রীমৎ বিপ্লব চৈতন্য ব্রহ্মচারী মহারাজ
অনাথ আশ্রম নিয়ে দুটি কথা---- ১৯৬৫ সাল । সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী পরমহংস পরিব্রাজক শ্রী শ্রীমৎ স্বামী বাসুদেবানন্দ গিরি মহারাজ নেহালপুর গ্রামে নির্জন পল্লীতে এক পুকুর পাড়ে মাত্র ২ কড়া জমি ক্রয় করে একটি কুঠির স্থাপন করে কঠোর তপস্যায় মগ্ন হন এবং এটির নাম দেন অযাচক আশ্রম। ১৯৮৫ সালে শ্রীমৎ স্বামী বাসুদেবানন্দ গিরি মহারাজের মহাসমাধি লাভের পর এই আশ্রমের দায়িত্ব গ্রহণ করেন শ্রীমৎ স্বামী কৃষ্ণানন্দ গিরি মহারাজ এবং গুরুর নামে এই আশ্রমের নাম দেন “শ্রী শ্রী বাসুদেব যোগাশ্রম”। অসংখ্য ভক্তের চির ভাস্কর গুরুদেব ¯শ্রীমৎ স্বামী কৃষ্ণানন্দ গিরি মহারাজ ২০০৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ¯শ্রীমৎ স্বামী বাসদেবানন্দজীর জন্মোৎসবে অসংখ্য ভক্তের সম্মুখে আশ্রমের দায়িত্বভার আমার উপর অর্পন করিলেন। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ৩রা আশ্বিন ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৪ তিনি দিব্য ধামবাসী হলেন। এর পর হতে আমি আশ্রমের দীন সেবক অধ্যক্ষ পদে নিয়োজিত আছি। ২০০৪ সালে এই আশ্রমের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর শ্রী শ্রী বাসুদেব যোগাশ্রমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান শ্রী শ্রী বাসুদেব অনাথ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করি। অসংখ্য ভক্তের দান অনুদানে এই প্রতিষ্ঠান আজ মহীরূপ ধারণ করেছে। সমাজের অসংখ্য ভক্তরা অনাথ ছেলেদের অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান,শিক্ষা,চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে মাসে মাসিক অনুদান দিয়ে থাকেন। এই সমাধিক্ষেত্র কে ঘিরে শিশু শ্রেণি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৫০০ পাঁচশতাধিক সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অসহায় অনাথ অবহেলিত পিতৃমাতৃহীন অনাথ শিশুরা আবাসিক সুবিধা সহ বিনামূল্যে পড়াশোন করছে। শ্রী শ্রী বাসুদেব বিদ্যাপীঠ নামে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাসুদেব স্কুল এন্ড কলেজ নামে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২০২২ সালে স্থাপিত হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারি ১ তরিখ শ্রী শ্রী বাসুদেব বিদ্যাপীঠের শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শুভ সূচনা হয় এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারির ১ তারিখ বাসুদেব স্কুল এন্ড কলেজের শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শুভ সূচনা হয়। একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি আশ্রম বিদ্যার্থীদের বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী করে তুলতে বাঁশি,সংগীত,হারমনি,তবলা,মৃদঙ্গ,গিটার,ড্রাইভিং এর প্রশিক্ষন দেওয়া হয়। আমার ইচ্ছা অনাথ বিদ্যার্থীদের কারিগরিক বিদ্যা দানের জন্য একটি কারিগরিক কলেজ স্থাপনের। আমার কাছে কোন জাতি ধর্ম বর্ণের ভেদাভেদ নেই। সকল ধর্মের উপর মানবধর্ম আমার কাছে শ্রেষ্ঠ ধর্ম। "যে ধর্ম অনাথের মুখে এক টুকরো রুটি ও বিধবার মুখে একটু হাসি দিতে পারে না আমি সেই ধর্মকে বিশ্বাস করি না।" --স্বামী বিবেকানন্দ-- এই বাণীকে শিরোধার্য করে সকলের কাছে বিনীত ভাবে অনুরোধ থাকবে আপনারা যে যেভাবে পারেন,যাকে বলে পারেন এই অনাথ ছেলেদের সহায়তায় এগিয়ে আসবেন। আসুন সবাই মিলে এক মহামানবতার মিলনক্ষেত্র তৈরি করি। সমাজের অসহায়,অনাথ,অহহেলিতদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসি। “মানবতার জয় হোক”
এই আশ্রমটি চট্টগ্রাম শহর প্রায় ১৮ কিমি দূরে হাটহাজারী নন্দীরহাটের নেহালপুর নামক স্থানে অবস্থিত। চট্টগ্রাম শহর থেকে নন্দীরহাট পৌঁছে হাতের ডান দিকে নন্দী দীঘির পাড় ঘেঁষে নন্দীরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা ধরে প্রায় দেড় কি.মি. গেলে এই আশ্রমটির দেখতে পাবেন।
এখানে অনাথ শিশুদের জন্য প্রতিদিন ৩ বেলা করে বছরে ১০৯৫ বেলা প্রসাদের ব্যবস্থা করতে হয়। অনাথ এইসব শিশুদের জন্য আপনি চাইলে অন্ততঃ ১ বেলা হলেও প্রসাদের ব্যবস্থা করতে পারেন। আপনিও চাইলে অনাথদের সাহাযার্থে আজীবন সদস্য, মাসিক সদস্য, দাতা সদস্য, ভূমি দাতা সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। আসুন, আপনি আমি সবাই যার যার অবস্থান থেকে সমাজের এই সকল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াই।
বছরজুড়েই বাসুদেব অনাথ আশ্রমে শিশুদের জন্য থাকে নানা আয়োজন, যার সবকিছুই আবর্তিত হয় অনাথ আশ্রমের শিশুদের ঘিরে..সাম্প্রতিক বাসুদেব অনাথ আশ্রমের নানা আয়োজন
ADDRESS :Sri Sri Basudev Orphanage, Nehalpur, Nandirhat, Hathazari, Chattogram, Bangladesh
Cell Phone: +8801812543964
e-Mail: basudeborphanage2004@gmail.com
| 2024 All Rights Reserved by basudev-orphanage.net | website design & devoloped by Krishna Pratim Datta |